মুহাররম,একটি মহান বরকতময় মাস। হিজরি সনের প্রথম মাস । এটি ‘আশহুরে
হুরুম’ তথা হারামকৃত মাস চতুষ্টয়ের অন্যতম। আশহুরে হুরুম সম্বদ্ধে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ [التوبة:36].
নিশ্চয় মাসসমূহের গণনা আল্লাহর কাছে বার মাস আল্লাহর কিতাবে,(সেদিন থেকে) যেদিন তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্য থেকে চারটি সম্মানিত,এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহে নিজদের উপর কোন জুলুম করো না।(সূরা তাওবা ৩৬)
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ [التوبة:36].
নিশ্চয় মাসসমূহের গণনা আল্লাহর কাছে বার মাস আল্লাহর কিতাবে,(সেদিন থেকে) যেদিন তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্য থেকে চারটি সম্মানিত,এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহে নিজদের উপর কোন জুলুম করো না।(সূরা তাওবা ৩৬)
হযরত
আবু বকর রাযি. নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবীজী বলেনঃ
{السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ: ثَلاثَةٌ
مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ
الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ } [رواه البخاري 2958]
বছর হলো বারোটি মাসের সমষ্টি, তার মধ্যে চারটি অতি সম্মানিত। তিনটি পর পর জিলকদ, জিলহজ ও মুহররম৷আর (চতুর্থটি হলো) জুমাদাস সানি ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব। (বোখারি ২৯৫৮)
'
ইসলামে বরকতময় ও ঐতিহাসিক যে কয়েকটি দিবস রয়েছে তন্মধ্যে আশুরা অন্যতম। আশুরা শব্দটি আরবী ‘আশরুন' থেকে উদগত। আশুরা অর্থ দশ বা দশম। আক্ষরিক অর্থে যেকোন মাসের দশ তারিখকেই আশুরা বলা যায়। কিন্তু ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় কেবলমাত্র হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশ তারিখকেই আশুরা বলা হয়।
মুহররম শব্দের অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। এ মাসসহ আরো ৩টি মাসে ঝগড়া-বিবাদ ও যুদ্ধ বিগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এরকম নিষিদ্ধ কর্মকান্ড থেকে মাসটি পাক-পবিত্র বলে ইহাকে মুহররম বা পাক পবিত্র মাস বলা হয়ে থাকে।
কুরআনের ভাষায় এটি
‘আরবাআতুন হুরুম’-অর্থাৎ সম্মানিত চার মাসের অন্যতম।
বছর হলো বারোটি মাসের সমষ্টি, তার মধ্যে চারটি অতি সম্মানিত। তিনটি পর পর জিলকদ, জিলহজ ও মুহররম৷আর (চতুর্থটি হলো) জুমাদাস সানি ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব। (বোখারি ২৯৫৮)
'
ইসলামে বরকতময় ও ঐতিহাসিক যে কয়েকটি দিবস রয়েছে তন্মধ্যে আশুরা অন্যতম। আশুরা শব্দটি আরবী ‘আশরুন' থেকে উদগত। আশুরা অর্থ দশ বা দশম। আক্ষরিক অর্থে যেকোন মাসের দশ তারিখকেই আশুরা বলা যায়। কিন্তু ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় কেবলমাত্র হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশ তারিখকেই আশুরা বলা হয়।
মুহররম শব্দের অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। এ মাসসহ আরো ৩টি মাসে ঝগড়া-বিবাদ ও যুদ্ধ বিগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এরকম নিষিদ্ধ কর্মকান্ড থেকে মাসটি পাক-পবিত্র বলে ইহাকে মুহররম বা পাক পবিত্র মাস বলা হয়ে থাকে।
কুরআনের ভাষায় এটি
‘আরবাআতুন হুরুম’-অর্থাৎ সম্মানিত চার মাসের অন্যতম।
হযরত
কাতাদাহ রাযি,বলেঃ
আল্লাহ তাআলা নিজ ইচ্ছা মাফিক যাকে ইচ্ছা বড় করতে পারেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ নিজ সৃষ্টি হতে খাঁটি ও উৎকৃষ্টগুলোকে বাছাই করেছেন৷ ফেরেশতাকুল হতে কতককে বাছাই করেছেন৷ রাসূলদের থেকে বাছাই করেছেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। কথা হতে বাছাই করেছেন তাঁর জিকিরকে। আর জমিন হতে বাছাই করেছেন মসজিদ সমূহকে। মাসসমূহ থেকে বাছাই করেছেন রমজান ও সম্মানিত মাস চতুষ্টয়কে। দিনসমূহ হতে বাছাই করেছেন জুমুআর দিনকে৷ আর রাত্রসমূহ থেকে বাছাই করেছেন লাইলাতুল কদরকে। সুতরাং আল্লাহ যাদের সম্মানিত করেছেন তোমরা তাদের সম্মান প্রদর্শন কর। আর বুদ্ধিমান লোকদের মতে, প্রতিটি বস্তুকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয় মূলত: সেসব জিনিসের মাধ্যমেই যেসব দ্বারা আল্লাহ তাদেরকে সম্মানিত করেছেন। (তাফসির ইবন কাসির, সূরা তাওবা আয়াত ৩৬)
'
হযরত রাসূল (সঃ) এ মাসে কোন ধর্মযুদ্ধও করেননি। এমনকি ইসলাম পূর্ব যুগেও এ মাসে শান্তি বিরাজ করতো। মুহররম, রজব, যিলক্বদ ও যিলহজ্ব- এ চারটি মাসকে আল্লাহ তা'য়ালা পরম সম্মানিত ও পবিত্র বলে আল কুরআনে উল্লেখ করেছেন। এরশাদ হয়েছে ‘‘তোমরা জেনে রেখ, এই চারটি মাস বড় ফজিলত ও বরকতপূর্ণ। তোমরা এই মাসগুলোতে পাপাচার করে নিজেদের উপর জুলুম করো না’’। স্বাভাবিকভাবে বুঝা যায়, এসব মাসে নেক আমল করলে ছাওয়াবও বেশী হবে। উল্লেখিত চার মাসের মধ্যে মুহররমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন আরবরা মুহররমের ১০ তারিখ দর্শনার্থীদের জন্য কা'বা ঘরের দরজা খোলা রাখত। পবিত্র আশুরা মুসলিম ঐতিহ্যে বড়ই বরকতপূর্ণ ও নানাভাবে অবিস্মরণীয়। ইসলামপূর্ব যুগেও এ দিনকে খুব মর্যাদা সহকারে পালন করা হতো। সৃষ্টির শুরু থেকে এ দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
'
"আশুরার রোযার সূচনা"
আশুরার রোজা পূর্ব হতেই প্রসিদ্ধ ছিল৷ এমনকি হযরত রাসূলুল্লাহর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহেলি যুগেও আরব সমাজে তার প্রচলন ছিল।
হযরত আয়েশা রাযি.থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ
( إن أهل الجاهلية كانوا يصومونه ).
অর্থাৎ জাহেলি যুগের লোকেরা আশুরাতে রোজা রাখত।
,
হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি,থেকে বর্নিত,
قال: قدم النبي – صلى الله عليه وسلم – المدينة فرأى اليهود تصوم يوم عاشوراء فقال: { مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ، هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى، قال: فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ } [رواه البخاري 1865].
আল্লাহ তাআলা নিজ ইচ্ছা মাফিক যাকে ইচ্ছা বড় করতে পারেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ নিজ সৃষ্টি হতে খাঁটি ও উৎকৃষ্টগুলোকে বাছাই করেছেন৷ ফেরেশতাকুল হতে কতককে বাছাই করেছেন৷ রাসূলদের থেকে বাছাই করেছেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। কথা হতে বাছাই করেছেন তাঁর জিকিরকে। আর জমিন হতে বাছাই করেছেন মসজিদ সমূহকে। মাসসমূহ থেকে বাছাই করেছেন রমজান ও সম্মানিত মাস চতুষ্টয়কে। দিনসমূহ হতে বাছাই করেছেন জুমুআর দিনকে৷ আর রাত্রসমূহ থেকে বাছাই করেছেন লাইলাতুল কদরকে। সুতরাং আল্লাহ যাদের সম্মানিত করেছেন তোমরা তাদের সম্মান প্রদর্শন কর। আর বুদ্ধিমান লোকদের মতে, প্রতিটি বস্তুকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয় মূলত: সেসব জিনিসের মাধ্যমেই যেসব দ্বারা আল্লাহ তাদেরকে সম্মানিত করেছেন। (তাফসির ইবন কাসির, সূরা তাওবা আয়াত ৩৬)
'
হযরত রাসূল (সঃ) এ মাসে কোন ধর্মযুদ্ধও করেননি। এমনকি ইসলাম পূর্ব যুগেও এ মাসে শান্তি বিরাজ করতো। মুহররম, রজব, যিলক্বদ ও যিলহজ্ব- এ চারটি মাসকে আল্লাহ তা'য়ালা পরম সম্মানিত ও পবিত্র বলে আল কুরআনে উল্লেখ করেছেন। এরশাদ হয়েছে ‘‘তোমরা জেনে রেখ, এই চারটি মাস বড় ফজিলত ও বরকতপূর্ণ। তোমরা এই মাসগুলোতে পাপাচার করে নিজেদের উপর জুলুম করো না’’। স্বাভাবিকভাবে বুঝা যায়, এসব মাসে নেক আমল করলে ছাওয়াবও বেশী হবে। উল্লেখিত চার মাসের মধ্যে মুহররমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন আরবরা মুহররমের ১০ তারিখ দর্শনার্থীদের জন্য কা'বা ঘরের দরজা খোলা রাখত। পবিত্র আশুরা মুসলিম ঐতিহ্যে বড়ই বরকতপূর্ণ ও নানাভাবে অবিস্মরণীয়। ইসলামপূর্ব যুগেও এ দিনকে খুব মর্যাদা সহকারে পালন করা হতো। সৃষ্টির শুরু থেকে এ দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
'
"আশুরার রোযার সূচনা"
আশুরার রোজা পূর্ব হতেই প্রসিদ্ধ ছিল৷ এমনকি হযরত রাসূলুল্লাহর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহেলি যুগেও আরব সমাজে তার প্রচলন ছিল।
হযরত আয়েশা রাযি.থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ
( إن أهل الجاهلية كانوا يصومونه ).
অর্থাৎ জাহেলি যুগের লোকেরা আশুরাতে রোজা রাখত।
,
হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি,থেকে বর্নিত,
قال: قدم النبي – صلى الله عليه وسلم – المدينة فرأى اليهود تصوم يوم عاشوراء فقال: { مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ، هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى، قال: فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ } [رواه البخاري 1865].
হযরত
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা হিজরত করেন,তখন ইয়াহুদিদের মুহাররমের ১০ তারিখে রোজা
রাখতে দেখেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এদিনে রোজা রাখো কেনো? তারা বললো, এটা আমাদের মুক্তি দিবস। মহান আল্লাহ এদিন মুসা আ. তাঁর সম্প্রদায়কে
মুক্তি দিয়েছেন ও ফেরাউনকে তার
দলবলসহ সাগরে নিমজ্জিত করেছেন। এর শুকরিয়া স্বরূপ
হজরত মুসা আ. এদিন রোজা
রেখেছেন। একই কারণে আমরাও রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা তোমাদের অপেক্ষা মুসার অধিকতর আপন ও হকদার। অতঃপর
তিনি নিজেও এদিন রোজা রাখেন ও সবাইকে রোজা
রাখার নির্দেশ দেন। বুখারি ও মুসলিম
(মুসলিম:২৭১৪)।
রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়৷ (আহকামুস সিয়াম)
(মুসলিম:২৭১৪)।
রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়৷ (আহকামুস সিয়াম)
হযরত
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
{ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى
صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلّا هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ،
وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি। (বুখারী ১৮৬৭)
'
হযরত আলী রা.কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপসি'ত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।(জামে তিরমিযী ১/১৫৭)
আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’
صوموا عاشوراء وخالفوا فيه اليهود، صوموا قبلهيوما أو بعده يوما
(মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)
'
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি। (বুখারী ১৮৬৭)
'
হযরত আলী রা.কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপসি'ত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।(জামে তিরমিযী ১/১৫৭)
আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’
صوموا عاشوراء وخالفوا فيه اليهود، صوموا قبلهيوما أو بعده يوما
(মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)
'
আয়েশা
(রা.) আরও বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেন, রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা
আল্লাহর মাস মহররমের আশুরার রোজা।’ (সুনানে কুবরা: ৪২১০)
{ حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ يَوْمٌ
تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ: “فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ
التَّاسِعَ”. قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ }.
'
মুসলিম শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত- ‘মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইহুদি-নাসারারা তো এই দিনটিকে বড়দিন মনে করে। (আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে) আগামী বছর থেকে আমরা ৯ ও ১০ তারিখ দুই দিন রোজা পালন করবো ইনশাআল্লাহ। বর্ণনাকারী বলছেন,আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়ে গিয়েছে। (সহিহ মুসলিম ১৯১৪৬)
'
মুসলিম শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত- ‘মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইহুদি-নাসারারা তো এই দিনটিকে বড়দিন মনে করে। (আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে) আগামী বছর থেকে আমরা ৯ ও ১০ তারিখ দুই দিন রোজা পালন করবো ইনশাআল্লাহ। বর্ণনাকারী বলছেন,আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়ে গিয়েছে। (সহিহ মুসলিম ১৯১৪৬)
ইমাম
শাফেয়ি ও ইমাম আহমাদ,
ইমাম ইসহাক প্রমুখ বলেছেন, আশুরার রোজার ক্ষেত্রে দশম ও নবম উভয়
দিনের রোজাই মুস্তাহাব। কেননা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ তারিখ রোজা
রেখেছেন এবং নয় তারিখ রোজা রাখার নিয়ত করেছেন। এরই উপর ভিত্তি করে বলা যায়, আশুরার রোজার কয়েকটি স্তর রয়েছে: সর্ব নিম্ন হচ্ছে কেবল দশ তারিখের রোজা
রাখা। আর সর্বোউচ্চ স্তর
হচ্ছে তার সাথে নয় তারিখের রোজা রাখা। এমনিভাবে মুহররম মাসে রোজার সংখ্যা যত বেশি হবে
মর্যাদা ও ফজিলতও ততই
বাড়তে থাকবে।'
আশুরার দিনে অন্য একটি আমল
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের মধ্যে পর্যাপ্ত খানাপিনার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহপাক পুরো বছর তার রিজিকে বরকত দান করবেন।’ (তাবরানি: ৯৩০৩)
আশুরার দিনে অন্য একটি আমল
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের মধ্যে পর্যাপ্ত খানাপিনার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহপাক পুরো বছর তার রিজিকে বরকত দান করবেন।’ (তাবরানি: ৯৩০৩)
উল্লিখিত
হাদিস সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল জাওযিসহ অনেক মুহাদ্দিস আপত্তিজনক মন্তব্য করলেও বিভিন্ন সাহাবি থেকে ওই হাদিসটি বর্ণিত
হওয়ায়। আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতিসহ অনেক মুহাক্কিক আলেম হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য বলে
মন্তব্য করেছেন। (জামিউস সগির-১০১৯)
HOME
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য।